ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুমের বিচারের পথ খুলল, সংসদে ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী পাস

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৭-০৪-২০২৬ ০২:৪৮:১২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৭-০৪-২০২৬ ০৩:৩৬:৫০ অপরাহ্ন
গুমের বিচারের পথ খুলল, সংসদে ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী পাস ​সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারের পথ প্রশস্ত করতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সংশোধনীর মাধ্যমে এখন থেকে ‘গুম’কে আনুষ্ঠানিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এক্তিয়ারে আনা হয়েছে। ১৯৭৩ সালের মূল আইনে গুমের বিষয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত ছিল না, যা এই সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হলো।

বিল পাসের আগে এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই বিলের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য একে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। যারা আমাদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের বলবো- এই আইনটি ভালো করে পড়ে দেখুন। গুম আগে তালিকায় ছিল না, আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছি।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গুমের সাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বিলটি পাসের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আমরা বিস্তারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করব। আপাতত এই বিষয়ে আর কিছু বলছি না।"

আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আইনমন্ত্রীকে বাইরের আলোচনা বাদ দিয়ে সংসদের ভেতরে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন সংসদীয় আইনে নেই।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট-এর এই সংশোধনীটি পাসের মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি পথ চিরস্থায়ীভাবে উন্মুক্ত হলো। এর ফলে এখন থেকে যেকোনো গুমের ঘটনাকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করা সম্ভব হবে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ